প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী: বিশেষজ্ঞ


নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ২২, ২০২৪, ৬:৫৭ অপরাহ্ন
প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী: বিশেষজ্ঞ

মো: আসাদুজ্জামান :: প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। একদিকে তীব্র গরমে পুড়ছে এশিয়ার প্রাণ-প্রকৃতি। হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি আর বন্যায় নাকাল ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র। আবহাওয়ার এই বিরূপ আচরণের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গেল কয়েকদিন ধরে নয়াদিল্লিতে চলছে তীব্র দাবদাহ। তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। সোমবার (২০ মে) দিল্লির নাজফগড়ে সর্বোচ্চ ৪৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী ৫ দিনের জন্য জারি করা হয়েছে রেড এলার্ট।

এরই মধ্যে পরীক্ষার কারণে যেসব স্কুলে এখনও ছুটি হয়নি, সেগুলো দ্রুত বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এদিকে গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

তীব্র গরমে পুড়ছে পাকিস্তানও। আগামী ২৩ মে থেকে শুরু করে ২৭ মে পর্যন্ত দেশটির পাঞ্জাব, সিন্ধুসহ বেশ কয়েকটি প্রদেশে মারাত্মক দাবদাহ অনুভূত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ অবস্থায় আগামী এক সপ্তাহ পাঞ্জাবের সব স্কুল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে প্রদেশটির সরকার। আর সিন্ধুর বাসিন্দাদের দেয়া হয়েছে সাবধানতা অবলম্বনের সতর্কতা।

একদিকে যখন পুড়ছে এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন দেশ তখন বন্যায় ভাসছে ইউরোপের পোল্যান্ড। স্থানীয় সময় সোমবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় গিনিয়াজনো শহরে বন্যা দেখা দিলেও বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে মঙ্গলবার।

রাস্তা-ঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন পথচারীরা। কোথাও কোথাও বিকল হয়ে পড়ে বিভিন্ন যান-বাহন। পরিস্থিতি সামলাতে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান উদ্ধারকারী দল। উদ্ধার করেন আটকে পড়াদের।

বৈরি আবহাওয়ায় নাকাল যুক্তরাষ্ট্রও। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে দেশটি নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের ওমাহা শহরে ঘন্টায় ৯৬ কিলোমিটার বেগে বয়ে যায় ঝড়ো হাওয়া।

এতে উপড়ে যায় গাছ-পালা। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন হাজার হাজার বাসিন্দা। বুধবার পর্যন্ত বজ্রপাতের পাশাপাশি ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

অন্যদিকে স্থানীয় সময় সোমবার রাতে শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইউমা অঞ্চল। জারি করা হয় বন্যা সতর্কতা।

হারিকেন, খরা ও দাবানল, বন্যা ও ঝড় প্রকৃতির স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব ঘটনা প্রায়ই ধ্বংসাত্মক রূপে হাজির হচ্ছে। পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তনের চরম আবহাওয়া ও বিপর্যয়কর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বায়ু ও পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শক্তিশালী ঝড় ও উচ্চগতির বাতাস, তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং দাবানল, ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যা দেখা দিচ্ছে। এসব দুর্যোগের ফল প্রায়ই ভয়ানক ও ধ্বংসাত্মক।