বাবর-শাহিনের দ্বন্দ্বেই পাকিস্তানের এই দুর্দশা: বাসিত আলী


আজকের কন্ঠস্বর ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন
বাবর-শাহিনের দ্বন্দ্বেই পাকিস্তানের এই দুর্দশা: বাসিত আলী

পাকিস্তান ক্রিকেটের ধারাবাহিক ব্যর্থতার জন্য বাবর আজম ও শাহিন শাহ আফ্রিদির কথিত দ্বন্দ্বকে দায়ী করেছেন দেশটির সাবেক ব্যাটসম্যান বাসিত আলী। তার দাবি, অধিনায়কত্ব নিয়ে দুই তারকা ক্রিকেটারের সম্পর্কে ফাটল ধরার পর থেকেই জাতীয় দলের অবনতি শুরু হয়েছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের ১৯৪ রানের বড় পরাজয়ের পর বাবরের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুই টেস্ট হেরে ইতিমধ্যে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে সফরকারীরা।

‘গেম প্ল্যান’ অনুষ্ঠানে বাসিত বলেন, ‘বাবর শক্তিশালী অধিনায়ক নন। তিনি অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

তবে শুধু ইংল্যান্ড সিরিজের ফল দেখে এমন মন্তব্য করছেন না বলেও জানিয়েছেন পাকিস্তানের হয়ে ১৯টি টেস্ট ও ৫০টি ওয়ানডে খেলা সাবেক এই ব্যাটসম্যান। তার মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটের সমস্যার শিকড় আরও পুরোনো।

বাসিতের ভাষায়, ‘অধিনায়কত্ব নিয়ে দুজনের দ্বন্দ্বের দিনই পাকিস্তান ক্রিকেট ধ্বংস হয়ে যায়।’

দুই ক্রিকেটারের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছেন, সেটি অবশ্য স্পষ্ট করেননি বাসিত। তবে তার দাবি, শাহিনকে সরিয়ে বাবরের হাতে আবার অধিনায়কত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এখন পাকিস্তান দলকে ভোগ করতে হচ্ছে।

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ব্যর্থতার পর তিন সংস্করণের অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন বাবর। এরপর শাহিনকে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়। তবে তার অধীনে নিউজিল্যান্ড সফরে খারাপ ফলের পর শাহিনকে সরিয়ে আবার বাবরকে অধিনায়ক করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় বাবরকে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের নেতৃত্ব থেকে সরানো হয়। পরবর্তী সময়ে তিন সংস্করণের জন্য আলাদা অধিনায়ক বেছে নেয় পাকিস্তান। বর্তমানে টেস্ট দলের নেতৃত্বে বাবর, ওয়ানডেতে শাহিন এবং টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক সালমান আলী আগা।

চলতি বছরের জুলাইয়ে শান মাসুদের জায়গায় আবার টেস্ট অধিনায়ক করা হয় বাবরকে। তার নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ ড্র করলেও ইংল্যান্ড সফরে কঠিন সময় পার করছে পাকিস্তান।

প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারের পর লর্ডসে ১৯৪ রানে পরাজিত হয়েছে দলটি। সিরিজের চার ইনিংসের কোনোটিতেই দুই শ রান করতে পারেনি পাকিস্তান। ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি দলের ফিল্ডিং ও কৌশল নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

দুই হারের পর দলে বড় পরিবর্তন এনেছে পিসিবি। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগাসহ সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। তৃতীয় টেস্টে দলের দায়িত্ব সামলাবেন সাদা বলের কোচ মাইক হেসন।

ব্যাট হাতেও দীর্ঘদিন ধরে নিজের সেরা ছন্দে নেই বাবর। চার বছর ধরে টেস্টে শতক পাননি তিনি। অন্যদিকে শাহিনকে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের লাল বলের পরিকল্পনার বাইরে রাখা হয়েছে।

বাসিতের বক্তব্যের পর দুই ক্রিকেটারের কথিত বিরোধ আবার আলোচনায় এলেও বাবর কিংবা শাহিন কেউই প্রকাশ্যে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকার কথা স্বীকার করেননি। বাসিতও তার দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দেননি।